Advertisements

লোকতাক : ভাসমান জীবন

২০১৮-র শেষ রাত্তিরটা যখন ২০১৯-এর প্রথম ভোরে গিয়ে মিশছিল, আমাদের পিঠের তলায় তখন ছিল গদি। গদির তলায় কাঠের পাটাতন। পাটাতনের নিচে ঘাসপাতা। ঘাসপাতার নিচে জল। অনেক অনেক গভীর জল। জলের ওপর ভাসা ঘাসপাতা-কচুরিপানাদের ওপর পোকাখেকো পাখপাখালির তুড়ুক লাফ তো দেখেইছি কত, কিন্তু কবেই বা ভেবেছিলাম জলে ভাসা ঘাসপাতার ওপর নিজেরা হেঁটেচলে বেড়াব! এমনকি সেই ঘাসপাতার ওপর একটা গোটা বাড়ি থাকবে! আর সেই বাড়িতে কাটিয়ে দেব গোটা একটা দিন,রাত!

মণিপুরের লোকতাক লেক। নীল জলের মধ্যে গোল গোল সবুজ রিং-এর ছবি অনেকদিন আগে দেখেছিলাম কোনো এক ম্যাগাজিনের পাতায়। ভেবেছিলাম এমন রিং-শেপের দ্বীপ গজায় কেমন করে? তখনো জানতাম না যে এসব আসলে দ্বীপ নয়। জলে ভাসা ঘাসপাতা মাত্র। জানতাম না তাদের এমন রিং-এর মতো আকার হয় কেন! কেমন করেই বা হয়?

উত্তর খুঁজতে যখন লোকতাকে হাজির হলাম, খোঁজ পেলাম এক অন্যরকম যাপনের। হ্যাঁ জলের রংটা ভারি সুন্দর। সো-মোরিরির মতো সুন্দর। কিন্তু আমাদের অবাক হওয়াটা শুধু চোখ জুড়ানোর মধ্যেই আটকে থাকল না। সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ল সেই অন্যযাপনের বিস্ময়টাই। জলে ভাসা ঘাসপাতাদের এই আশ্চর্য ওজন ধরে রাখার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ কেমন করে চালাচ্ছে তার জীবন-জীবিকা, ভাসমান বেঁচে থাকার সেই সব কিছু টুকরো ফ্রেম জুড়ে জুড়ে আমাদের খুঁজে পাওয়া উত্তরদের সাজিয়েছি ছোট্ট একটা তথ্যচিত্রে।

 

Advertisements

Leave a Reply

Create a website or blog at WordPress.com

Up ↑

%d bloggers like this: