তাঞ্জোর নৃত্যোৎসব (Tanjore Dance Festival)

(Excerpt: During the era of the King Rajaraja Chola I, every evening people used to gather in the Brihadisvara Temple complex to cherish classical music, dance and Vedic chants. Beautiful evenings of that bygone era come alive now-a-days for one week. Every year, on the day of Mahashivaratri (falls during February-March) and following seven evenings, classical music and dances are performed here in the temple complex. It is not a big deal to see this type of performance on stage, but experiencing Indian tradition on an age old stone stage inside an ancient temple-complex… it is something different, may be a lifetime memory for you! If you wish to come across the same, write down your queries in the comment section. For further details on Tanjore, you may go through our blog on Top Things to Do in Tanjore.)

সূর্যাস্তের কমলা আর রাত-আকাশের নীল – এ দুয়ের মাঝে এক চোখে আরাম-বুলানো নীল সন্ধ্যে আসে খুব অল্প সময়ের জন্য। ঠিক সেই সময়টাতেই হাজির হলাম বৃহদীশ্বর মন্দিরের চত্বরে। তাঞ্জোরের বৃহদীশ্বর মন্দির। হাজার বছর আগে চোল-রাজাদের বানানো, একুশতলা বাড়ির সমান উঁচু। থাক। ওসব সংখ্যার কচকচি করতে গেলে নীল সন্ধ্যেটা আঙ্গুলের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে যে! তার চেয়ে বরং মন্দিরচত্বরে ঢুকে দেখি কি হচ্ছে সেখানে। ওই যে বিশাল নন্দীমূর্তিটা, যা কিনা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম নন্দী (আহ্‌ আবার জিকে আওড়ানো কেন?), তার সামনের পাথরের চাতালটায় শাস্ত্রীয় নাচগানের আসর বসেছে। প্রতিবছরই শিবরাত্রির দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী এক সপ্তাহ এখানে প্রতি সন্ধ্যায় এই আসর বসে।

Tanjore Dance Festival
Tanjore Dance Festival

না বুঝি রাগরাগিণীর সুরতাল। না বুঝি নাচের মুদ্রা। তবু অবোধ ভালোলাগা বলে একটা ব্যাপার থাকে। বিশেষত যখন অমন মায়া-মায়া নীল সন্ধ্যা-আকাশের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে এক প্রাচীন মন্দিরের ধীর গম্ভীর সিল্যুয়েট – মন্দিরের সামনে ভরতনাট্যমের উজ্জ্বল পোশাকে ফুটফুটে কিশোরীরা – তাদের খোঁপায় বাঁধা বেলফুলের মালার গন্ধ ভাসে বসন্তের মিঠে বাতাসে – ভাসে সুর – সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে যায় মস্তিষ্কের কোশে কোশে। কি সুন্দর আমার দেশ! কি স্নিগ্ধ আমার দেশ! কতদিন এমন স্নিগ্ধতা দেখি না! এখানে আসার আগে প্রায় তিন সপ্তাহ জুড়ে খালি ঘেন্না দেখেছি। সীমান্তে হানাহানি। ফেসবুকে বাকযুদ্ধ। কথার পিঠে কেবল কথা। মগজভরে ডিপ্রেশনের চাষ। এই স্নিগ্ধতা-ভরা সন্ধ্যা যেন জ্বরের কপালে জলপট্টির মত শুষে নিল আমার সব খারাপ-থাকাদের।

সাবেককালের মন্দিরচত্বরে ধ্রুপদী নৃত্যের অনুষ্ঠান দেখার একটা আলাদা রোমাঞ্চ আছে। খাজুরাহ ডান্স ফেস্টিভাল তো পৃথিবীবিখ্যাত। অনেকবার যাব-যাব করেও যাওয়া হয়নি। সেখানে নিশ্চয় আরো অনেক আড়ম্বর হয়ে থাকে। তাঞ্জোর উৎসবের এই ঘরোয়া ছিমছাম মৌতাত কি আর পাব? এখানে আমাদের নিয়ে টুরিস্ট হবে জনা দশেক। বাকি সবাই স্থানীয় মানুষ। চেয়ার-টেবিল-মঞ্চ-মণ্ডপের দৃশ্য-দূষণ নেই। চাতালের সামনে পাতা শতরঞ্চিই দর্শক-আসন। অতীতে নাকি প্রতি সন্ধ্যায় এখানে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ আর নৃত্যগীতের আসর বসত, নগরের লোক দল-বেঁধে দেখতে আসত এমনভাবেই। শিবরাত্রির পরের এই কটা দিন সেকাল এসে মেশে একালের সন্ধ্যায়। এই মন্দির-নির্মাণের পৃষ্ঠপোষক চোলরাজ রাজারাজা মন্দিরের অদূরে তালিচ্ছেরি নামে দুটি লম্বা রাস্তা তৈরির বন্দোবস্ত করেছিলেন, যেখানে চারশ নর্তকী বসবাস করত। সেইসব মেয়েরা আজ কোথায়? শুধু তাদের নাচের ভঙ্গিগুলো পাথরের মূর্তি হয়ে স্থায়ী হয়ে রয়েছে মন্দিরের দেওয়ালে-থামে। নাচ দেখতে দেখতে ভঙ্গি মেলাই – সেকালের পাথরের সাথে একালের প্রাণের। কোনো প্রভেদ নেই। পরম্পরা।

3
Tanjore Dance Festival _ Bharatanatyam
Tanjore Dance Festival
Tanjore Dance Festival _ Bharatanatyam

তিন ঘন্টায় তিনটি নাচের অনুষ্ঠান। প্রথমটি ছিল স্থানীয় একটি দলের ছোট মেয়েদের ভরতনাট্যম্‌। এরপরের দুটো ছিল এক মহিলা শিল্পীর একক মোহিনী-আট্যম্‌ ও এক পুরুষ-শিল্পীর একক ভরতনাট্যম্‌। কেরালায় গিয়ে কথাকলি দেখেছিলাম, কিন্তু মোহিনী-আট্যম্‌ দেখিনি। নাচটা সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। যদিও এটা তামিলনাড়ু। কেরালা নয়। তবুও এই মন্দিরের পরিবেশে মোহিনী-আট্যম্‌ দেখতে পাওয়াটা খুবই সৌভাগ্যের ব্যাপার ছিল। কোনো নাচেরই কোনো ব্যাকরণ জানি না। তবু দেখলাম শিল্পীর কুশলতায় আমাদের না-বোঝাটা একটু একটু করে বোঝায় বদলে যাচ্ছে কেমন! একটা গানে কেবল একটিই লাইন বারবার উচ্চারিত হচ্ছিল – “সহস্রকোটি জনপালন”। সহস্রকোটি পৃথিবীবাসীকে পালন করতে গিয়ে বিশ্বেশ্বর শিব কখনও কুন্ঠিত, কখনও লজ্জিত, কখনও কিংকর্তব্যবিমূঢ়, কখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন, আবার ডুবে যাচ্ছেন গভীর হতাশায়, কখনও আবার গর্বিত, এই বুকফাটা হাহাকার তো এই তুমুল অহংকারের মাত্রাছাড়া উন্মাদনা, মাঝে মাঝে অসম্ভব স্যাডিস্ট, আবার কখনও খুশিতে উদ্বেল, কখনও অপার স্নেহে টইটুম্বুর তাঁর পিতৃহৃদয়… এছাড়াও আরও কত কত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম আবেগ, মনস্তত্ত্বের কত বিচিত্রমুখী বিস্তার, কত স্তর, কত স্তর থেকে স্তরান্তরে যাতায়াত… সবটা… সবটা শিল্পী নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলছেন তার চোখে-মুখে নাচের ভঙ্গিমায়। সবটা বুঝতে পারছি নাচ দেখে। এই যে কিছুই না জেনেও সবটা বুঝে যাওয়া – এই আনন্দ আবিষ্কারের আনন্দ।

This slideshow requires JavaScript.

পরের ভরতনাট্যম্‌ শিল্পী কোনো এক পৌরাণিক আখ্যানকে ফুটিয়ে তুলছিলেন। গল্পটা শুরুতেই বলে দিলেও তামিলভাষা বুঝতে পারিনি। তাঁর নাচ থেকে পুরো গল্পের নাগাল না পেলেও গল্পের নানা টুকরো টুকরো মুহূর্ত অনায়াসে বুঝতে পারছিলাম। কি অসম্ভব প্রাণশক্তি নিয়ে ঘন্টাখানেক দাপিয়ে নেচে গেলেন। সারা গা চকচক করছে ঘামে। তবু ক্লান্তিহীন। ভ্রান্তিহীন। আমাদের পাশেই মায়ের কোল ঘেঁষে বসে আছে ভরতনাট্যমের পোশাক-পরা এক ছোট্ট মেয়ে। একটু আগে সেও ছিল ওই প্রথম নাচের দলে। তার কাজলটানা চোখের পলক পড়ে না দেখি। হাঁ করে দেখছে সিনিয়র শিল্পীর নাচ। দেখছে না। গিলছে। এই হাঁ করে গেলা মুগ্ধতার পথ বেয়ে বয়ে চলে পরম্পরা।

This slideshow requires JavaScript.

IMG_20190330_215929
মুগ্ধ দর্শক

 

যারা বৃহদীশ্বর যাবেন ভাবছেন, তারা আমাদের Tanjore: Brihadisvara & Beyond ব্লগটি দেখতে পারেন।

আরও নানান রকম উৎসবের হদিশ পাওয়া যাবে পালাপাব্বন অংশে।

Advertisements