শলাপরামর্শ: নিজ দায়িত্বে মিশর ভ্রমণ (Tips for Self Arranged Egypt Trip)

সময়ের সাথে সাথে মানুষের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ট্রাভেল এজেন্সির সাথে নাড়া না বেঁধেও যে দেশের বাইরে নিজেদের উদ্যোগে ঘোরা যায়, এমনটা এখন অনেকেই বুঝতে শিখেছেন। স্বপ্ন দেখা আর স্বপ্ন সত্যি করাও শুরু করে দিয়েছেন। এই দেশের বাইরে ঘোরার তালিকায় অনেকেরই এক নম্বর পছন্দ মিশর। নিজ দায়িত্বে মিশর ভ্রমণ কেমন করে সম্ভব, সে বিষয়ে সোশাল মিডিয়ায় বহু মানুষের একই ধরণের প্রশ্নের উত্তর টাইপ করতে করতে মগজ ও আঙুল ক্লান্ত হয়ে যাওয়ায় ভেবে দেখলাম এই বিষয়ে একটা ব্লগই লিখে ফেলি। সাধারণত যে প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হই সেগুলো ধরে ধরেই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।

নিজেরা মিশর যাওয়া কি আদৌ নিরাপদ?

দেখুন, নিরাপত্তার অভাব ব্যাপারটা দুরকম।

একনম্বর হল খুচরো অপরাধের সম্ভাবনা। যেমন চুরি, ছিনতাই, শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ। এসবের বালাই একদম নেই। আমরা দুজনে রাত দেড়টা অবধি কায়রোর রাস্তায় হেঁটে ঘুরেছি। কোনো অসুবিধার মুখোমুখি হইনি। তবে টুরিস্টস্পটগুলিতে পর্যটকদের ঠকানোর জন্য অনেক লোক ওঁত পেতে থাকে।  এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে আলোচনা করছি।

দুনম্বর বিপদের সম্ভাবনা – বড়সড় নাশকতার সম্ভাবনা। যেমন জঙ্গিহানা, গৃহযুদ্ধ। এগুলো কখন কোথায় হবে কেউ বলতে পারে না। আমার বেড়ানোর সময় হয়নি মানেই আপনার ক্ষেত্রেও হবে না এমন নিশ্চয়তা নেই। নিজ দায়িত্বে মিশর ভ্রমণ-এ বের হওয়ার আগে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে খবরাখবর নিয়ে যাবেন। যে সব জায়গায় গোলমালের সম্ভাবনা আছে, মিশর সরকার সেখানে টুরিস্ট গাড়ি বা বাসকে পুলিশি নিরাপত্তায় কনভয় করে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখে। মধ্য মিশরের একটা অত্যন্ত অফবিট রুটে আমরা গেছিলাম, যেখানে টুরিস্টরা যায়ই না। একটি পুলিশের গাড়ি পুরো রাস্তা কেবল আমাদের পাহারা দিয়ে নিয়ে গেছিল। এবং কোনো পয়সা আমাদের দিতে হয়নি সেজন্য, কারণ বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের, এমনটাই ওদের ভাবনা।


মাথাপিছু কেমন খরচ?

আমাদের মাথাপিছু একলাখ দশ হাজার টাকা মতো পড়েছিল সমস্ত কিছু খরচ মিলিয়ে(২০১৬ সালের কথা)। কিন্তু তার মানে এই নয় আপনারা গেলেও ঠিক এরকমই খরচ পড়বে। পুরো ব্যাপারটাই নির্ভর করছে ঘোরার জায়গা, ঘোরার দিনসংখ্যা এবং ঘোরার ধরণের ওপর। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলি –

  • আমরা ১৭ দিনের জন্য ঘুরেছিলাম।
  • ঘোরার জায়গাগুলি ছিল – কায়রো, লুক্সর, আসোয়ান ও সাহারা মরুভূমি।
  • ঘোরার ধরণ – যাওয়া-আসার সর্বনিম্ন প্লেনভাড়া এবং দর্শনীয় জায়গাগুলির এন্ট্রি ফি তো সকলের ক্ষেত্রে একই। বাদবাকি খরচাপাতি ঘোরার ধরণের ওপর নির্ভর করছে। যেমন – থাকা: আমরা কায়রো ও লুক্সরে ব্যাকপ্যাকার্স হোস্টেলে্র ডর্মিটরিতে বেডভাড়া করে থাকতাম। মাথাপিছু বেডভাড়া কায়রোতে ভারতীয় ৩৫০ টাকা ও লুক্সরে ভারতীয় ৩০০ টাকার কাছাকাছি ছিল। আসোয়ানে হোস্টেল পাইনি। যে গেস্টহাউসে ছিলাম সেখানের ডবলবেড ঘরের ভাড়া ভারতীয় ১৮৫০ টাকা মত ছিল।খাওয়া: আমরা মূলত স্ট্রিট ফুড বা ছোটখাটো রেস্টুরেন্টে খেতাম, যেখানে স্থানীয় মধ্যবিত্ত মানুষদের খেতে দেখতাম সেই সব জায়গায়। যাতায়াত: কায়রো, লুক্সর ও আসোয়ানে শহরের মধ্যে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ঘুরেছি। শহরের বাইরে গাড়ি ভাড়া করে গেছি। আমরা যা করিনি: আমরা নাইল ক্রুজ করিনি। সাধারণত যারাই মিশরে বেড়াতে যান, তারাই এটা করেন। মিশর ভ্রমণের প্রায় অর্ধেক খরচ এই বিলাসবহুল ক্রুজেই চলে যায়। কমপক্ষে মাথাপিছু ৩৫ হাজার ভারতীয় টাকা লাগে।(বিলাসবহুল পরিবেশ আমাদের খুব বোরিং লাগে। তাই আমরা করিনি। আপনাদের ভালো লাগলে অবশ্যই করবেন।) আমরা যা অতিরিক্ত করেছি: সাধারণত গড়পরতা পর্যটকরা মিশরের অন্তর্গত সাহারা মরুভূমির অংশ ঘুরতে যান না। সাহারায় আমরা ৩ রাত ও ৪ দিনের ক্যাম্পিং করেছিলাম। সাহারা মরুভূমিতে নিজেরা ঘোরার অনুমতি নেই। আমরা এক লোকাল অপারেটরের সাথে ঘুরেছিলাম। থাকা-খাওয়া-ঘোরা সব মিলিয়ে ৩০০ ডলার মানে (২০১৬-র রেট অনুযায়ী)ভারতীয় ২০হাজার টাকা মাথাপিছু নিয়েছিল। এছাড়া আমরা কায়রো থেকে মধ্য মিশরে একটি ডে-ট্রিপ করেছিলাম। আর লুক্সর থেকে ডেন্ডেরা-অ্যাবিডোস ডে ট্রিপ করেছিলাম। এগুলিও অধিকাংশ পর্যটক করেন না।


কোলকাতা থেকে কীভাবে যাব?

কোলকাতা থেকে কায়রোর ফ্লাইট সপ্তাহে প্রতিদিন থাকে না। আমাদের যাওয়ার দিনে ছিল না। আমরা মুম্বই থেকে প্লেন ধরেছিলাম। এছাড়া দিল্লি থেকেও ফ্লাইট আছে। ২০১৬ সালে আমাদের মুম্বই-কায়রো যাওয়া-আসা মিলিয়ে মাথাপিছু ভারতীয় ২৮হাজার টাকার কাছাকাছি পড়েছিল। আমরা সাধারণত skyscanner-এর সাইট থেকে ফ্লাইটভাড়া চেক করি।


ভিসা কীভাবে করব?

দিল্লিতে ইজিপ্ট এম্ব্যাসির অফিসে সরাসরি অ্যাপ্লাই করতে পারেন। সেক্ষেত্রে পাসপোর্টসহ সমস্ত জরুরি ডকুমেন্টস নিজেকেই ডাকযোগে পাঠাতে হবে। নিজ দায়িত্বে মিশর ভ্রমণ করলেও এসব ভিসার ঝামেলা এড়াতে কোনো এজেন্সি মারফত ভিসা করাতে পারেন। তারা কিছু সার্ভিস চার্জ নেবে। আমাদের মাথাপিছু ৩৯০০ টাকা পড়েছিল। সঙ্গে দিতে হয়েছিল পূরণ করা ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম, কভারিং লেটার, ২টি পাসপোর্ট সাইজের(৩৫ X ৪৫মিমি) রঙিন ছবি, যাওয়া-আসার টিকিটের কপি, যে কোনো একটি জায়গার হোটেল বুকিং-এর কনফার্মেশন, ব্যাঙ্কে মাথাপিছু ১ লাখ টাকা করে আছে এরকম দেখানো গত ৬ মাসের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট। মনে রাখবেন ভিসার খরচ ও নিয়মকানুন সময়ের সাথে সাথে বদলায়।



ট্যুরপ্ল্যান কেমন ছিল?

প্রথমেই বলি আমরা আমাদের ট্যুর প্ল্যান আমাদের রুচি, আগ্রহ এবং বাজেট অনুযায়ী সাজিয়েছিলাম। এটাই আপনার জন্যও উপযুক্ত হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। আমাদের সফরকে কায়রো, সাহারা, আসোয়ান, লুক্সর – এই চারপর্বে ভাগ করে দিন ধরে ধরে লিখছি-

কায়রো পর্ব

প্রয়োজনীয় ব্লগের লিংক: 10 Experiences You Must Have while Visiting Cairo

সাহারা পর্ব

প্রয়োজনীয় ব্লগের লিংক: 10 Amazing Places of Western Desert, Egypt (Sahara) : Suggested Itinerary & Tips

আসোয়ান পর্ব

  • দিন ১০ – ফাইলি মন্দির, ঘর্ব সোহেল, সোহেল আইল্যাণ্ড ও এলিফ্যান্টাইন আইল্যান্ড ঘোরা।
  • দিন ১১ – সকালে আবু সিম্বেল। বিকেলে নীলনদের দৃশ্য উপভোগ।

লুক্সর পর্ব

  • দিন ১২ – সকালে আসোয়ান থেকে বের হয়ে গাড়িতে লুক্সর পৌঁছানো। যাওয়ার পথে দারাও-এ পশুহাট, এডফু মন্দির, কোম ওম্বো মন্দির দেখতে দেখতে যাওয়া। সন্ধ্যাবেলা লুক্সরের কর্নক মন্দিরে লাইট অ্যাণ্ড সাউণ্ড দেখা।
  • দিন ১৩ – সকালে কর্নক মন্দির ও বিকেল-সন্ধ্যায় লুক্সর মন্দির।
  • দিন ১৪ – ডেন্দেরা ও অ্যাবিডোস ডে ট্রিপ।
  • দিন ১৫ – ভ্যালি অফ কিংস, হাতশেপসুতের মন্দির, মেদিনেত হাবুর মন্দির ও কলোসি অফ মেমনন।
  • দিন ১৬ – টুম্বস অফ নোবলস, টুম্বস অফ আর্টিসানস। লুক্সর থেকে কায়রো ফেরা।
  • দিন ১৭ – কায়রো থেকে মুম্বইয়ের প্লেন ধরা।

**জরুরি ফুটনোট

  •  লক্ষ্য করবেন কায়রো পর্বে আমরা দুবার গিজার পিরামিড গেছি। সকালে ও বিকেলে আলাদা আলাদা দিক থেকে আলো পড়ে, তাই আলাদা আলাদা রকম লাগে। এই ব্যাপারটা উপভোগ করতেই দুবার যাওয়া।
  •  ১২তম দিনে আমরা যে রাস্তাটা গাড়িতে গেছি, তার সমান্তরালে নীলনদ প্রবাহিত। নীলনদের এই অংশটুকুই নাইল ক্রুজে নিয়ে যায়। পথে নোঙর করে এডফু ও কোম ওম্বো মন্দির দেখায়। যদিও পশুহাটটি দেখায় না। তবে ক্রুজ সাধারণত ৪ দিনের হয়। বাকি ৩ দিনের মধ্যে ২দিন লুক্সরের ঘাটে ও ১ দিন আসোয়ানের ঘাটে  নোঙর করে রাখে। পর্যটকদের দিনেরবেলায় গাড়ি করে আসোয়ান ও লুক্সরের সাইটসীয়িং করায়। তবে লুক্সরে সব জায়গায় নিয়ে যায় না। কেবল কর্নক মন্দির, লুক্সর মন্দির, ভ্যালি অফ কিংস, হাতশেপসুতের মন্দির ও কলোসি অফ মেমনন নিয়ে যায়।

থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা কী?

থাকা: কায়রো  – Dahab Hostel, লুক্সর – Bob Marley Peace Hostel,  আসোয়ান – Bet El Kerem Guest House.  কায়রোর হোস্টেলটি HostelWorld-এর সাইট থেকে বুকিং করেছিলাম। বাকি দুটি Booking.com মারফত করেছিলাম। যাদের হোস্টেলে থাকার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই তাদের বলি – হোস্টেলে অচেনা মানুষদের সাথে ডর্মিটরি শেয়ার করতে হয়। শেয়ার্ড টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। হোস্টেলে সাধারণত ১৮ বছরের নিচে কাউকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয় না। হোটেলে যে সুযোগ-সুবিধা, আরাম ও প্রাইভেসি পাওয়া যায়, হোস্টেলে তেমনটা পাওয়া যায় না। হোস্টেল বুক করার আগে এই ব্যাপারগুলি মাথায় রাখবেন। না চাইলে হোটেলও পেয়ে যাবেন প্রচুর।

খাওয়া: ভারতীয় খাবার মিশরে কোথায় পাওয়া যায় এসব প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। আমরা বেড়াতে গেলে সেখানকার স্থানীয় খাবারই খাই। আমরা মূলত স্ট্রিট ফুড বা ছোটখাটো রেস্টুরেন্টে খেতাম। কোশারি, ফালাফেল, কোফতা কাবাব, হাওয়াওশি এসব মিশরের জনপ্রিয় ডিশ। সবই খুব সুস্বাদু। মিশরে গিয়ে গুছিয়ে খেজুর ও চিজ খাবেন।



ওখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা কেমন?

  • আমরা কায়রো থেকে আসোয়ান আর লুক্সর থেকে কায়রো ফ্লাইটে এসেছি। এই জায়গাগুলো ট্রেনেও যাওয়া যায়। কিন্তু মিশরে বিদেশিদের ট্রেনে কেবল ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট দেয়। আর ফার্স্ট ক্লাসের ভাড়া প্লেন ভাড়ার কাছাকাছি।
  • আমরা গাড়িভাড়া করেছিলাম যেসব ক্ষেত্রে – ১। আসোয়ান থেকে লুক্সর যাওয়া (খরচ প্রায় ৩৫০০ ভারতীয় টাকা), ২।কায়রো থেকে মধ্য মিশরের ডে ট্রিপ(খরচ প্রায় ৮০০০ ভারতীয় টাকা), ৩।কায়রো থেকে সাকারা ও দাসুরের ট্রিপ(খরচ প্রায় ২০০০ ভারতীয় টাকা), ৪।লুক্সর থেকে ডেন্ডেরা-অ্যাবিডোসের ডে ট্রিপ(খরচ প্রায় ৫০০০ ভারতীয় টাকা)।
  • গিজার পিরামিড কায়রোর বাইরে। প্রথমে মেট্রো ও পরে পাবলিক বাসে গেছিলাম। আসোয়ান থেকে আবু সিম্বেল শেয়ার্ড গাড়িতে গেছিলাম।
  • শহরের মধ্যের ঘোরাঘুরি: কায়রো্ – মেট্রো, বাস ও ট্যাক্সি। লুক্সর – টাঙা, ট্যাক্সি আর পাবলিক ভ্যান। আসোয়ান – ট্যাক্সি আর পাবলিক ফেরি। পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ভাড়া আমাদের দেশের সমতুল্য।

মিশরের মানুষজন কেমন?

মিশরের মানুষ খুবই অতিথিবৎসল আর সহৃদয়। কিন্তু যারা পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের থেকে সাবধান। মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা, জোর করে কোনো জিনিস বা পরিষেবা গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, নানা ফন্দিফিকির করে বকশিস আদায় করা – এসব ব্যাপার মিশরে এত বেশি হয় যে সে নিয়ে একটা গোটা ব্লগই লিখে ফেলেছি। এখানে ক্লিক করুনঃ How to Handle the Tourist Scams while Visiting Egypt.



ওয়েদার কেমন?

আমি অক্টোবরে গেছি। তাই শুধু অক্টোবরের কথাই বলতে পারব। রাতে খুব আরামদায়ক পরিবেশ। দিনে ভীষণ গরম। চড়া রোদ। টুপি, সানগ্লাস, সানস্ক্রিন আর সুতির জামা অবশ্যই ব্যবহায় করবেন। আর সবসময় সাথে জল রাখবেন। প্রচুর জল খাবেন। সাহারায় রাতের দিকে একটু ঠান্ডা পড়ে। ১০-১২ ডিগ্রি মতো।


একটা এক সপ্তাহ/ দশদিনের মিশর বেড়ানোর প্ল্যান করে দিতে পারবেন?

এইরকম প্রশ্ন আমায় বেশ বিড়ম্বনায় ফেলে। আমি যে যে জায়গা ঘুরেছি এবং প্রতিটা জায়গা যতটা সময় নিয়ে বিস্তারিতভাবে এক্সপ্লোর করেছি, সেরকম অল্পদিনে করা অসম্ভব। এক্ষেত্রে দুটো উপায়। এক কিছু জায়গা পুরোপুরি বাদ দিয়ে অন্যগুলো যাওয়া। আর দুই একদম গতানুগতিক রুট যা সবাই ঘোরে এবং যতটুকু বুড়িছোঁওয়া করে ঘোরে সেটুকুই করা। কিন্তু তাতেও কায়রো দুদিন, আসোয়ান দুদিন, আসোয়ান থেকে লুক্সর আসা একদিন আর লুক্সর দুদিন কমপক্ষে লাগবেই। মানে সব মিলিয়ে সাতদিন আর যাতায়াতে আরো দুদিন। অর্থাৎ নদিন।

তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি মিশরে গেলে সাহারা মরুভূমির হোয়াইট ডেজার্ট অংশটি এবং ডেন্ডেরা-অ্যাবিডোসের মন্দির কখনোই বাদ দেওয়া উচিত না। নিজ দায়িত্বে মিশর ভ্রমণ করার কথা ভেবেছেন যখন, তখন এইটুকু অ্যাডভান্টেজ তো নেওয়াই উচিত! সাহারা সর্বনিম্ন ১ দিন থেকে সর্বোচ্চ ১ সপ্তাহ অবধি ঘোরা যায়। যত ঘুরবেন ততই বেশি বেশি অবাক হবেন। তাও নিতান্তই সময় না হলে কায়রো থেকে ডেট্রিপে হোয়াইট ডেজার্টটুকু ঘুরে নিতে পারেন।



আলেকজান্দ্রিয়া, রেড সী ইত্যাদি গেছি কিনা?

না যাইনি। পরের বার যাব। আলেকজান্দ্রিয়া, রেড সী আর সাহারা মরুভূমির সিওয়া ওয়েসিস অংশ পরেরবারের জন্য তুলে রেখেছি। তখন আবার হয়ত এই ব্লগটার মেদবৃদ্ধি হবে কিছুটা। আপাতত আর কিছু জানার থাকলে নিচের কমেন্টবক্সে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।



Advertisements